0 1 min 2 yrs

বাংলাদেশে কেন বাড়ছে ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদ?

সবার জীবনে হয়তো বিয়ে সুখের হয় না, কারো কারো জীবনে নেমে আসে একটু আলাদা নিয়ম আর অন্য কোন পথের ঠিকানা এটার কারন হলো ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদ ৷ বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে আমাদের সুখের সংসার ভেঙ্গে যায়।  ডিভোর্স বা বিবাহ বিচ্ছেদ এর শিকার হতে হয় কখনো কখনো একটি অবুঝ শিশুকে ৷

বাংলাদেশে বিবাহবিচ্ছেদ বাড়ার পিছনে মূল যে কারণ গুলো রয়েছে –

• নিজেদের কে সময় দিতে না পারা

• ধর্ম অনুযায়ী চলাচল না করা

• একে অপরের বন্ধু হতে না পারা

• দু’জন এর মধ্যে মতামত এর মিল না থাকা

• শিক্ষার অভাব থাকা অথবা বয়সে অনেক পার্থক্য

• সামান্য কিছু নিয়ে কথা বলতে না পেরে ঝগড়া বিবাদ এ জড়িয়ে যাওয়া

• শিক্ষার অভাবের ফলে স্ত্রীর গায়ে হাত উঠানো

• যৌতুক নিয়ে অথবা দিয়ে বিবাহ দেয়া

ধর্মীয় অনুশাসন এ বিবাহ এবং বাংলাদেশে বিবাহবিচ্ছেদ?

মুসলমানদের মধ্যে ও বর্তমানে বিবাহ বিচ্ছেদ দেখা দিচ্ছে ৷ যার পরিমাণ দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে ৷ বাংলাদেশে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যেগুলোতে স্বামী, স্ত্রী কে তালাক দিয়ে দিচ্ছে ৷ অথবা দেখা যাচ্ছে স্ত্রীতার স্বামী কে তালাক দিচ্ছে ৷ কারণ হিসেবে জানা যাচ্ছে স্বামী স্ত্রী এরমনের অমিল অথবা নিরক্ষরতা ৷ কখনো কখনো দায়ী করা হচ্ছে ইচ্ছের বাইরে বিয়ে দেয়া হয়েছে অথবা স্বামী স্ত্রী দুজন মিলে-ই এই সিদ্ধান্ত যেতারা আর সংসার করবেন না, শেষ হিসেবে তালাক এর সিদ্ধান্ত. আবার কখনো এর বিপরীত টাও জানা যায়৷

জানুন বিভিন্ন জরিপে উঠে আসা ডিভোর্সের মূল কারণগুলো?

• সামাজিক অস্থিরতা থেকে বিবাহ বিচ্ছদের মতো ঘটনা ঘটছে

• অর্থনৈতিক পট পরিবর্তন থেকে বিবাহ বিচ্ছদের মতো ঘটনা ঘটছে

• অন্যতম একটি কারো হচ্ছে ধর্মীয় অনুশাসন থেকে সরে যাওয়া যা বিবাহ বিচ্ছেদের দিকে ঠেলে দেয়

• আর এছাড়াও রয়েছে পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়া

• স্বামী তার স্ত্রী কে সন্দেহের নজরে দেখা

• মতামতের অমিল বা অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া

• একসঙ্গে থেকে সংসার করতে না পারা বা স্বামী স্ত্রী আলাদা বাসায়বা বিদেশে থাকা

• স্বামীর ইচ্ছের প্রাধান্য না দেয়া

• বদমেজাজ আর ঝগড়ায় জড়িয়ে যাওয়া

• সংসারের প্রতি কম মনোযোগী হওয়া

• নারীদের বন্ধাত্বটা সহ পরিবারে দায়িত্বশীল না হতে পারে

• এছাড়াও যৌতুক, মাদকাসক্তি, সময় দিতে না পারা এসব কারণেও বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে থকে

১০ টি মূল কারণ যার ফলে সবচেয়ে বেশি ডিভোর্স হয়ে থাকে?

• ধর্মীয় অনুশাসন ও সুশিক্ষার অভাব

• পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে ভুল করা

• তালাকের অপব্যবহার

• তালাকের মত গুরু দায়িত্ব নারীদের হাতে প্রদান করা

• অপরাধ ও গুণাহ করা, গুনাহে লিপ্ত থাকা, প্রযুক্তি

• স্বামী অথবা স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে কঠোরতা ও জুলুম করা

• যৌতুক একটি সামাজি ব্যাধি

• তথাকথিত নারীসংগঠন

• উভয় দিকের চাহিদা ও আশা

• সন্দেহ, দ্রুত বাচ্চা না নেয়া, ধৈর্য না থাকা

ডিভোর্সের নেপথ্য কিছু কারণ ও অগ্রসরতা ?

তালাক – বিকারগ্রস্থ মানুষ  সব সময়ই ছিল, তাদের দিয়ে কখনো উন্নতি সম্ভব হয় নি৷ প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষ কে ভালোর দিকে ও নিয়ে যেতে পারতো কিন্তু বিকারগ্রস্থ মানুষ গুলো তা খারাপ কাজেই ব্যবহার করে থাকে৷ ধর্ম পালন ও নৈতিকতার ওভাবেই হচ্ছে তালাক৷ প্রধানত নারীরাই তালাকের ক্ষেত্রে এগিয়ে৷

বিবাহ পরবর্তী আরো ৫ টি অন্যতম কারণ যার ফলে বাড়ছে ডিভোর্স

• শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়া

• প্রত্যাশা পূরণের অভাব থেকে যাওয়া

• ধর্যের অনেক অভাব থাকা

• ভবিষৎ নিয়ে বা ক্যারিয়ার নিয়ে সমস্যা

• পরিবারের সদস্যের প্রতি অনধিকার

ধর্ম ও ইসলাম ধর্মে স্ত্রী তালাকে দেনমোহরের টাকা পাবে?

বিবাহ বিচ্ছদের কিছু নিয়ম আছে. যার মধ্যে সর্বপ্রথম হলো ধর্মীয় নিয়ম, তার পর আসে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ৷ রাষ্ট্রের দেয়া নিয়ম কে খুব একটা মান্ন্য না করা হলেও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই যায় ৷ আর ধর্মীয় নিয়মগুলোকে মানতেই হয়৷
সে ক্ষেত্রে হিন্দু ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী বিবাহের সাথে সাথে-ই বাবারসম্পত্তির যে ভাগ টুকু মেয়ের প্রাপ্য তা সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেয়া হয় ৷

দেন-মোহর আসলে বিষয়টি ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য ৷ সেক্ষেত্রে বলা আছে বিয়ের দিনই বর যেন তার স্ত্রী কে দেন-মোহর এর পুরো টাকা টা দিয়ে দেন ৷ এটা একজন স্ত্রী হিসেবে মেয়ে দের হোক বলা হয়ে থাকে ৷ তবে কখনো কখনো ব্যতিক্রম দেখা যায়, মানে স্ত্রীর কাছে অনুমতি নিয়ে দেন-মোহর এর টাকা পরে ও পরিশোধ করে দেয়া যায় ৷

বিজ্ঞানভিত্তিক কারণ গুলো বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে কতটুকু যৌক্তিক?

বর্তমান সমাজে বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এবং শহরাঞ্চলে বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়েই চলেছে এবং এর পিছনে বিজ্ঞান ভিত্তিক যে কারণ গুলো রয়েছে তার অন্যতম হচ্ছে বয়সের সঠিক ধারণা ৷ সঠিক সময়ে বিয়ে করে নিলে সেটি টেকসই বা মজবুত সম্পর্ক হয়ে থাকে যা ভবিষ্যতে ডিভোর্সের দিকে গড়ায় না ৷ এবং দুজন এর মধ্যে যথেষ্ট আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকলে বয়সের পার্থক্য খুব বেশি হলেও সম্পর্ক টিকে থাকে ৷ তাই বিজ্ঞান বলে সব থেকে কম বয়সে যেমন ১৫ থেকে ২০ এই বয়সের সম্পর্ক মজবুত হয় কম আবার ২৬ থেকে ৩০ এই বয়সের সম্পর্ক মজবুত হয় বেশি ৷

চাকরির ক্ষেত্রে বিজ্ঞান যে বিষয়টি বলে থাকে তা হলো স্ত্রী তালাক দেয়ার অন্যতম কারণ গুলোর মধ্যে একটি হলো স্বামীর ফুল টাইম চাকরি না থাকা ৷ সংসারে অন্য কিছুর মতোই সংসার চালানোর জন্য যে টাকা দরকার সেটি পূরণ হতে না পারায় সন্তান এর ভবিষ্যৎ আর বর্তমান প্রেক্ষাপট এর দিকে তাকিয়ে তালাকের দিকে ঝুঁকে পড়েন অনেকেই ৷

সঙ্গীর প্রতি নেতিবাচক ভাবমূর্তি যেমন সঙ্গীকে ছোট করে দেখা, সঙ্গী কেনিয়ে বাজে সমালোচনা করতেই থাকা, সঙ্গীর সাথে মতামত প্রকাশে অমিল, একে অপরের সাথে ঝগড়া বা কথা বলা বন্ধ করে দেয়া, এসব কিছু কেও বিজ্ঞান তালাকের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখে থাকে ৷

দাম্পত্য জীবনের শুরু তে সঙ্গী তে অতিরিক্ত ভালবাসা অথবা রোমাঞ্চকর অনুভূতি দিয়ে ফেললে এটি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় ৷কারণ এতে করে সঙ্গীর মনে ধারণা জন্মে যে সে এর থেকেও বেশি পেতে পারে কিন্তু হয়ে যায় উল্টো টা ৷ একজন তার অতিরিক্ত দিয়ে বসেছে যাসে পরবর্তীতে আস্তে আস্তে কমিয়ে ফেলে, অতিরিক্ত কিছুই ভালো না ৷ফলে শেষ ফলাফল হয় ডিভোর্স ৷

নিজের দাম্পত্য জীবনে অন্য কারো প্রবেশ ঘটানো তা আসলে অনেকটাই বোকামি, এতে করে সৃষ্ট কনো সমস্যার সমাধান স্বামী স্ত্রী দুজন মিলে করতে পারে না, ফলে ধীরে ধীরে দুজন এর মাঝে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয় তা তালাকের দিকে চলে যায় ৷

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী তালাকের বিধান রয়েছে যা কার্যকর করে ধর্মীয়অনুশাসন রক্ষা করা যায় ৷ সমাজে থাকে শান্তি ৷ তালাকের কারণে একজন তার অসৎ চরিত্রের স্বামী কে তালাকের মাধ্যমে সুন্দর জীবনে ফিরে আসতে পারে ৷ আবার স্বামী মন মতো চলাফেরা করা স্ত্রীকে তালাক প্রদানের মাধ্যমে একজন ভালো মেয়ের সঙ্গে আজীবন এর বন্ধনে যুক্ত হতে পারে ৷ একদিকে তালাকের পরিমান বেড়ে গেলেও, তালাকের ব্যবস্থা না থাকলে হয়তো বাকি জীবন এক সাথে কাটিয়ে দেয়া হয়ে পড়তো দুর্বিসহ ৷

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *