badhonmatrimony
0 1 min 6 mths
আজকের যুগে দাম্পত্য জীবনে সুখী থাকার ব্যাপার টা অনেকটা চ্যালেঞ্জের মত। যদিও ব্যাপারটা খুব কঠিন কিছুনা। স্বামী-স্ত্রীর মত মধুর সম্পর্ক সব সময় একই রকম থাকেনা, সময়ের সাথে সাথে সম্পর্কের রং অনেক সময় ফিকে হয়ে আসে, দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়া একজনের উপর নয় বরং দুজনের সদিচ্ছা আর মানিয়ে চলার উপর ও অনেকটা নির্ভরশীল।

তাছাড়াও দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আন্তরিকতা। বিনীত, নমনীয়, বিশ্বাস যোগ্যতা, ভালো স্বভাব, সহযোগী মনোভাবাপন্ন, ক্ষমাশীল, উদার ও ধৈর্যশীলতা গুণ গুলো সংসার টিকিয়ে রাখতে সাহয্যে করে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে ‘সম্পর্ক’ বিশেষজ্ঞ টি তাশিরো বলেন “আপনি যদি সত্যিই অসাধারণ কাউকে পেতে চান ,তাহলে জীবন সঙ্গী খুঁজে পাওয়া সত্যিই অনেক কঠিন হবে আপনার জন্য।

একটি বৈবাহিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো ভালোবাসা,দুজন দুজনের প্রতি ভালোবাসা থাকলেই কেবল সকল প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এক সাথে থাকা সম্ভব। যতই বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন দুজন এক সাথে থাকার দৃঢ় মনোবল ই পারে সকল বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করে দুজনকে পাশাপাশি রাখতে।

আসুন জেনে নেই দাম্পত্য জীবনে সুখী থাকার সহজ কিছু উপায়।

১.মনের মিলঃ সব সময় দুজন মানুষের মনের মিল না হওয়াটাই স্বাভাবিক এক্ষেত্রে একজনকে অবশ্যই ছাড় দিতে হবে, সঙ্গীর ভালো লাগা, খারাপ লাগা জেনে নিয়ে সেই ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত, অন্য কারো সাথে তুলনা করা এড়িয়ে চলা ভালো। কোনো বিষয় নিয়ে দ্বিমত হলে দুজন বসে খোলামেলা আলোচনা করে নিতে পারেন।

২.জোর করে কোনো কিছু চাপিয়ে দিবেন নাঃ কখনই নিজের সঙ্গীর উপর কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দিবেন না। আপনার পছন্দ সব সময় আপনার সঙ্গীর পছন্দ হবে ব্যাপারটা সব সময় এরকম নয়। শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কখনই জোর করবেন না, আপনার চাহিদা বুঝিয়ে বলুন, অন্য মানুষটার সমস্যা বুঝার চেষ্টা করুন।

৩.বিশেষ দিন মনে রাখুনঃ বিশেষ দিন প্রত্যেকটা মানুষের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ,এই দিন গুলোতে প্রিয়জনকে গিফট,সারপ্রাইজ অথবা অন্য কোনো উপায়ে উদযাপন করে খুব সহজেই খুশি করে ফেলতে পারেন আপনার সঙ্গীকে। বিশেষ করে এনিভার্সারি, জন্মদিন এই দিন গুলোতে উপহার আদান প্রদান আপনার সংসারকে করবে আরো সুখের।

৪.ভুল বোঝাবুঝি এড়িয়ে চলুনঃ প্রত্যেক টা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হয়,একজনের দৃষ্টিতে যেটা সঠিক, অন্যজনের কাছে সেটা ভুল মনে হতে পারে। আর এইসব ইস্যু গুলোতে খোলামেলা আলোচনা ভালো ফল নিয়ে আসতে পারে, চেষ্টা করুন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে দুজন দুজনকে জানিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে।

৫.সন্দেহ থেকে দূরে থাকুনঃ সন্দেহ এমন এক ব্যাধি যা একটি সুন্দর সম্পর্কের মৃত্যু ডেকে আনতে পারে খুব ই অল্প সময়ের মধ্যেই, সম্পর্কের মাঝে সন্দেহকে কোন অবস্থায় ই প্রশ্রয় দিবেন না, সঙ্গীর সন্দেহজনক কিছু লক্ষ্য করলে সাথে সাথে আলোচনা করে সমাধান করে নিন,সন্দেহকে জিইয়ে রাখবেন না কোনো অবস্থাতেই।

৬.সঙ্গীকে সময় দিনঃ আজকাল আমরা সবাই কম বেশি ব্যস্ত থাকি কিন্তু এর মাঝে ও সময় বের করে আপনার সঙ্গীর খোঁজ নিন, সে ভালো আছে কিনা জানুন,তাকে জানার চেষ্টা করুন,কাজের যতই চাপ থাকুক ফোন করে না পারলে টেক্সট করে হলেও সঙ্গীর খোঁজ রাখুন, ভালোবাসা যেন শরীর সর্বস্ব না হয়, বরং মন জয় করুন।

৭.পরিবর্তনঃ জোর করে কোনো কিছু পরিবর্তন করতে যাবেন না, আর সঙ্গীর কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করলে এর পেছনের কারণ টা জানার চেষ্টা করুন। ছোট ছোট পরিবর্তন গুলো লক্ষ্য করুন, সেই অনুযায়ী করণীয় ঠিক করুন।

৮.ছাড় দেয়ার মনমানুষিকতা রাখুনঃ দাম্পত্য জীবনে সব সময় একজনের হাতে কতৃত্ব থাকবে ব্যাপারটা মোটেই এমন নয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে ছাড় দেয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখুন। আপনি কারো জন্য ছাড় দিলে সে ও আপনার জন্য ছাড় দিবে এটা মাথায় রাখুন, দেখবেন সম্পর্ক সুন্দর ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

৯.ভুল করলে স্বীকার করুনঃ ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় যদি কখনো কোনো ভুল হয়েও যায় তা লুকানোর চেষ্টা না করে কনফেস করুন,নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চান, অঙ্গীকার করুন এমন ভুল আর কখনো হবেনা। এতে করে আপনার উপর ভরসা তৈরি হবে আপনার সঙ্গীর, পরবর্তীতে পূর্বের করা ভুলের ব্যাপারে সচেতন থাকুন।

১০.প্রিয়জনকে নিয়ে একান্তে সময় কাটানঃ একই রুটিন, একই ব্যস্ততা মানুষের মনে বিষাদের দেয়াল সৃষ্টি করে, সঙ্গীর জন্য সময় বের করে মাঝেমধ্যে ঘুরে আসুন দূরে কোথাও, সাধ্য অনুযায়ী দেশে অথবা দেশের বাহিরে কোথাও থেকে ঘুরে আসতে পারেন আপনার সঙ্গীকে নিয়ে, এতে করে দাম্পত্য জীবনে যোগব হয় নতুন মাত্রা। কাজে ফিরে আসে নতুন উদ্যম।

১১.সম্পর্কে তৃতীয় ব্যাক্তিকে না বলুনঃ দাম্পত্য জীবনে সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল হতে হবে, সম্পর্কে কোনো অবস্থাতেই যেন তৃতীয় ব্যক্তির আবির্ভাব না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করুন এর জন্য তৃতীয় কাউকে সম্পর্কের মাঝে ডেকে আনার দরকার নেই। এই ব্যাপারে দুজনেই সতর্ক থাকুন,নিজেদের করা সামান্য ভুল ই হতে পারে সম্পর্ক শেষ হওয়ার কারণ।

১২.অফিসের কাজ বাসায় নয়ঃ অফিসের কাজ অফিসেই রেখে আসুন ,অসমাপ্ত কোনো কাজ থাকলে প্রয়োজনে পরেরদিন করুন, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই অফিসের কাজ বাসায় এসে করবেন না, এতে করে আপনার উপর যেমন অতিরিক্ত চাপ পরবে তেমনি আপনার সঙ্গী ও হতে পারে মনঃক্ষুন্ন,বাসায় যে সময়টা কাটাবেন সেটা একান্তই আপনার এই সময়টা যতটা সম্ভব আপনার সঙ্গীকে দেয়ার চেষ্টা করুন।

✅ আমাদের সার্ভিস সম্পর্কে কোন পরামর্শ বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহপূর্বক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

✅ আমাদের হেল্পলাইন নম্বরঃ 📞 ০১৭১১৪৬৮৫৯৯ 📞 ০১৭৩০১৮৭৪৪৪

✅ ইমেইলঃ 📧 badhonmatrimony@gmail.com

✅ ওয়েবঃ  www.badhonmatrimony.com

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *