Badhon Blog
badhonmatrimony

জীবনে কাজে লাগে এমন যে ১০টি বিষয় শিশুদের শেখাতে পারেন

জীবনের বিভিন্ন প্রতিকূলতা, দ্বন্দ্ব ও ব্যর্থতাকে কার্যকরভাবে সামাল দেয়ার জন্য সন্তানকে যথার্থভাবে প্রস্তুত করে তোলা বাবা-মা’র দায়িত্ব। তারা নিজেদের জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান সন্তানদের সাথে শেয়ার করে তাদেরকে জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু শেখাতে পারেন। এতে তাদের মধ্যে পরবর্তী জীবনে সব বিষয় আত্মবিশ্বাসের সাথে সামাল দেয়ার সামর্থ্য তৈরি হবে।
জীবনমুখী শিক্ষা আপনার সন্তানকে কেবল শক্তিই যোগাবে না, বরং ভালোভাবে পৃথিবীর সামনে দাঁড়াতেও সাহায্য করবে। শিশুদের নিচের জীবনমুখী শিক্ষাগুলো দিতে পারেন:
.
বাচ্চারা সাধারণত বাবা-মাকে দেখে অনেক কিছু শিখে। তাই ব্যক্তিগতভাবে সততা অবলম্বনের মাধ্যমে বাচ্চাদেরকে এই গুণের শিক্ষা দিতে পারেন। অর্থাৎ যত ছোট বা নিরীহই হোক না কেন, অসততা কিংবা প্রতারণা থেকে বিরত থাকতে হবে। আপনি অন্যদের সাথে সত্যি কথা বলছেন, সেটাও তাকে দেখতে দিন। বাচ্চা মিথ্যা বলছে বুঝতে পারলে রিঅ্যাক্ট করবেন না। তাকে মিথ্যা বলার ফলাফল বুঝিয়ে বলুন ও তার ভুল স্বীকার করতে উৎসাহিত করুন।
.
সন্তানের সাথে কথা বলার সময় নিয়মিত ‘প্লিজ’ ও ‘থ্যাংক ইউ’ ধরনের শব্দ বা বাংলায় এমন ভঙ্গী ব্যবহার করুন। যেমন, আদেশ না করে কোনো কাজ করতে অনুরোধ করা, “একটু আমার ফোনটা নিয়ে আসবে বাবা”, এরকম। একজন শিশু যখন নিয়মিতভাবে তার চারপাশের মানুষদের অন্যের সাথে ভালো ব্যবহার করতে দেখবে, তখন সেটা তার নিজের মধ্যে সহজেই ধারণ করতে পারবে।
.
ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাদের স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেলে তারা রোগমুক্ত সুস্থ জীবন যাপন করতে পারবে। ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাদের পুষ্টিকর খাবার দেয়ার পাশাপাশি নিজেও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
.
একজন ভালো মানুষ হওয়ার জন্য বড়দের, অন্যদের, কর্তৃপক্ষের ও নিজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা থেকেই একজন ব্যক্তির মধ্যে আত্মসম্মান ও অন্যের প্রতি সহমর্মিতা তৈরি হয়। এর ফলে শিশুরা জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে সবার সাথে সহাবস্থান করা শিখবে। অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা থেকেই শিশুদের মধ্যে উদারতা, দৃঢ়তা ইত্যাদি গুণ তৈরি হবে।
.
বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের খেলাধুলায় ভালো হওয়া ও জয়-পরাজয় উভয়ই হাসিমুখে মেনে নেয়ার শিক্ষা দিতে পারেন। তাহলে তাদের সন্তানরা হেরে গেলেও থেমে যাবে না এবং নিজেদের ভুলগুলি থেকে শিখবে। খেলার মাঠে যে শিশুরা জয়-পরাজয়কে হাসিমুখে মেনে নিতে পারে, জীবনের অন্যান্য ব্যর্থতাকেও তারা ভালোভাবে সামাল দিতে পারে।
.
যে শিশুরা কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্ল্যান বানিয়ে গুছিয়ে নিতে পারে তাদেরই জীবনে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। টাইম ম্যানেজমেন্ট শেখার মাধ্যমে শিশুরা তাদের প্রোডাক্টিভিটি ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারে। ভালো টাইম ম্যানেজমেন্ট কাজে মনোযোগ বাড়ায় ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
.
শিশুদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করা খুবই প্রয়োজনীয়। একজন মানুষের সঠিক ভাবে নিজ দায়িত্ব পালন ও তার ফলাফল মেনে নেয়া শিশুরা তাদের বাবা-মাকে দেখে শিখতে পারে। এতে শিশুদের মধ্যে কাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে এবং তারা নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে।
.
আপনার সন্তানকে অন্যের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেয়ার শিক্ষা দিন। গাছে পানি দেয়ার মতো ছোট কাজ, বয়স্ক প্রতিবেশীদের বাজারের ব্যাগ বহনে সাহায্য, কাউকে রাস্তা চিনিয়ে দেয়া, অন্যের যত্ন নেয়া এবং প্রয়োজনে অনুরোধ করা ইত্যাদির মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে সহমর্মিতা ও উদারতা তৈরি হয়। আপনার সন্তানকে অন্যের প্রতি ক্ষমাশীল হওয়ার শিক্ষা দিন।
.
আপনার সন্তানকে নিয়মিত বিভিন্ন বিষয় শেখার সুযোগ করে দিন, যাতে শেখার প্রতি তার ভালোবাসা জন্মায়। তার আগ্রহের বিষয় খুঁজে বের করতে সাহায্য করুন এবং সে বিষয় নিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করুন। এতে শিশুরা নতুন বিষয় ও দক্ষতা শিখে নেয়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। নিয়মিত নতুন জিনিস শিখলে সহজেই তাদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান বাড়বে এবং তারা বিভিন্ন পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিতে সক্ষম হবে।
.
যখন থেকে বাচ্চাদের পকেটমানি বা হাতখরচ দিবেন, তখনই তাকে টাকা পয়সা সামাল দেয়া, সঞ্চয় করা ও মিতব্যয়িতার সুফল শিখিয়ে দিন। ছোটবেলা থেকেই তাদের বাজেটিং করা শেখান। বিচক্ষণভাবে অর্থব্যয় ও সন্তুষ্টির জন্য ছোটবেলা থেকেই এসব অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার।
* * *
নিজের সন্তানকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও তথ্য দিয়ে জীবনে সঠিকভাবে চলার শিক্ষা দেয়াটা বাবা মায়ের দায়িত্ব। এইসব জীবনমুখী শিক্ষা একজন শিশুকে ভালো, দায়িত্বশীল ও সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
badhonmatrimony

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *